যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে, জুতা ও ট্রাভেল গুডসে উজ্জ্বল প্রবৃদ্ধি

প্রকাশ :
সংশোধিত :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক (আরএমজি) চলতি ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে চাপে রয়েছে। তবে একই সময়ে ফুটওয়্যার (জুতা) ও ট্রাভেল গুডস রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
সাম্প্রতিক মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর ওটেক্সা প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৮১ দশমিক ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। গত বছরের একই মাসে এ আয় ছিল ৭০১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলার।
২০২৬ সালের জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের ১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কম। একই সময়ে বাংলাদেশ ৪৫৭ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন বর্গমিটার পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ২১ শতাংশ কম।
রপ্তানিকারকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা কমে গেছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ও ক্রেতাদের ব্যয় সংকোচনও রপ্তানি হ্রাসে ভূমিকা রাখছে।
এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলারে। তবে সামগ্রিক পতনের মধ্যেও ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। ভিয়েতনাম এ সময়ে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে।
অন্যদিকে চীনের রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে। দেশটির পোশাক রপ্তানি ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। ভারতের রপ্তানিও ২৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমে ৭২৮ দশমিক ৯২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতির অনিশ্চয়তা এবং নির্বাচনী পরিস্থিতি ক্রেতাদের অর্ডার স্থগিত করতে বাধ্য করেছে। তার মতে, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ উভয় বাজারেই ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।
ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহিউদ্দিন রুবেল জানান, মার্কিন বাজারে সামগ্রিক আমদানি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি পোশাকের ইউনিট মূল্য ২ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমেছে।
তবে একই সময়ে জুতা ও ট্রাভেল গুডস রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৭২ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলারের ফুটওয়্যার রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের ৫০ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
ট্রাভেল গুডস রপ্তানি ৬৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে ২৬ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠান শুয়েনিভার্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াদ মাহমুদ বলেন, চাহিদা কমার পরিবর্তে বরং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নতুন অর্ডারের প্রবাহ বেড়েছে। বিশেষ করে চীন থেকে শ্রমনির্ভর শিল্পের অর্ডার স্থানান্তর হওয়ায় বাংলাদেশ সুযোগ পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও জুতার অর্ডার বাতিল বা স্থগিত হয়নি এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে দ্রুত ডেলিভারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শ্রমনির্ভর উৎপাদন খাতে চীন থেকে অর্ডার স্থানান্তরের সুযোগ বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারলে ভবিষ্যতে এই খাতে প্রবৃদ্ধি আরও বাড়তে পারে।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.